শুধু সামাজিক বন্ধন নয়; এটি ঘিরে বিশ্বের নানা প্রান্তে গড়ে উঠেছে বিচিত্র সব রীতি ও বিশ্বাস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিদোং নৃগোষ্ঠীর মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী বিবাহপ্রথা রয়েছে, যেখানে নবদম্পতিকে বিয়ের পর টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন টয়লেট ব্যবহার না করার নিয়ম মানতে হয়।

তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই কঠোর নিয়ম অনুসরণ করলে দাম্পত্য জীবন হয় দীর্ঘস্থায়ী, শান্তিপূর্ণ ও কলহমুক্ত। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতিকে নির্দিষ্ট ঘরে রাখা হয়, যেখানে তারা ঘরের বাইরে যেতে পারেন না এবং কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করতে পারবেন না। টয়লেট ব্যবহারের পাশাপাশি খাদ্য ও পানীয় গ্রহণও সীমিত থাকে, যাতে শারীরিক চাপ কম হয়। আত্মীয়স্বজন সার্বক্ষণিক নজরদারি করেন, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ না করে।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে—মোট ৭২ বার শারীরিক সম্পর্কের পরও—স্ত্রী গর্ভধারণ না করায় সন্দেহ দানা বাঁধে দিমিত্রিয়াসের মনে। এরপর তিনি প্রতিবেশিকে বাধ্য করেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে। পরীক্ষার রিপোর্টে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—প্রতিবেশি যুবকও পিতা হওয়ার সক্ষমতা রাখেন না।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দিমিত্রিয়াস অর্থ ফেরতের দাবি জানান এবং আদালতের দ্বারস্থ হন। জার্মানির আদালত বিষয়টি গ্রহণ করলেও এমন ‘চুক্তির’ আইনগত বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

এদিকে, ঘটনার রেশ ধরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয় প্রতিবেশি যুবকের সংসারেও। তার স্ত্রী স্বীকার করেন, তাদের দুই সন্তানই অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের ফল, স্বামীর মাধ্যমে নয়।

পুরনো এই ঘটনাটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হলে আবারও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। দাম্পত্য সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং আইনি কাঠামো নিয়ে সমাজে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই ঘটনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।